ডেইলি স্কয়ার সিলেট রিপোর্ট :
মুফিজুর রহমান নাহিদ স্টাফ রিপোর্টার:- আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে সারাদেশের সকল সংসদীয় এলাকায় ক্রমেই জোরদার হচ্ছে বিভিন্ন দলের নির্বাচনী প্রস্তুুতি। বিভিন্ন কৌশলে চলছে ভোটের প্রচার। জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিরামহীনভাবে দৌড়ঝাঁপ করছেন। দিন যত যাচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারে তারা ততই সরব হচ্ছেন।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীয়ত সংসদ সদস্য পদে দাঁড়ি পাল্লা প্রতিকের প্রার্থী সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশেন শূরা সদস্য হাফিজ মাওলানা আনোয়ার হোসেন খান নির্বাচনের মাঠে কৌশলী প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। ইতোমধ্যে উপজেলা সদর থেকে হাট-বাজার, পাড়া মহল্লা জামায়াতের নেতাকর্মী এবং ভোটারদের নিয়ে ভোট সেন্টার ভিত্তিক কমিটি ও পাড়া কমিটি সম্পূর্ণরূপে গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। যা পুরো প্রচারণায় এনেছে সংগঠনিক ভিত্তি। পাড়া-মহল্লা গিয়ে নারী ও পুরুষদের পৃথক পৃথক বৈঠকে বসে শুনছেন স্থানীয় সমস্যা, নাগরিক প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন তাঁদের পরিকল্পনার কথা।
সমগ্র কানাইঘাট -জকিগঞ্জে তিনি প্রথম ওয়ার্ড প্রতিনিধি সমাবেশ,ভোট সেন্টার কেন্দ্রীক এজেন্টদের প্রশিক্ষণ,পাড়া মহাল্লায় গিয়ে জনগণের সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে নোট করা এবং নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের ব্যবস্থাকরা । এই বিষয়টি বিশেষ করে তরুণ ও নতুন ভোটারদের নজর কেড়েছে সিলেট ০৫ আসন জুড়ে ব্যাপক সাড়া।
এছাড়া ও তিনি কানাইঘাট জকিগঞ্জের বিভিন্ন কলেজ, মাদ্রাসা,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিজিট করে তাদের সমস্যা গুলো চিহ্নিত করণ যা তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
এমনকি বিভিন্ন কলেজ ক্যাম্পাসেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় যা নতুন ভোটারদের মধ্যে যোগ করছে উৎসাহ উদ্দীপনা।
এই ধরনের ব্যাতিক্রমী প্রচার প্রচারনা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের ভিন্ন ধারার চিন্তাভাবনা আগামী দিনের রাজনীতিকে আরও স্মার্ট করে গড়ে তুলবেন এবং আগামীর ভবিষ্যৎ গড়তে তরুনরা রাজনীতিতে এগিয়ে আসবে।
সেখানে তিনি তুলে ধরেন কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, স্মার্ট সিলেট গঠনের পরিকল্পনা ও সিলেটে নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনা। নির্বাচনি কৌশলের অন্যতম বিশেষ দিক হচ্ছে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতি তার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার। তিনি বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন সনাতনী সম্প্রদায়ের সাথে।
ইমাম ও মোয়াজ্জেনদের সঙ্গে ওয়ার্ডভিত্তিক সভারও আয়োজন করে যাচ্ছেন তিনি, তাদের চাহিদা এবং সমস্যা সমাধানে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ের উপর দিচ্ছেন গুরুত্ব।
এ ছাড়া সিলেট-৫ আসনের বিভিন্ন স্থানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক উঠান বৈঠক করছেন তিনি। নারী ভোটারদের সঙ্গে আলাদা মতবিনিময় সভা করে তাদের নিরাপত্তা উদ্যোগ, অর্থনৈতিক সুযোগ ও ভবিষ্যৎ পথচলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামি ছাত্রশিবির সহ অঙ্গসহযোগি সংগঠনের নেতারা নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন। সকাল থেকে শুরু করে প্রতিদিনই গণসংযোগ করছেন পাড়া মহল্লায়। এছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচিসহ সামাজিক অনুষ্ঠান ও হাটবাজারে গিয়ে তারা সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, দোয়া চাচ্ছেন হাফিজ আনোয়ার হোসেন খান , তিনি যেতে না পারলে তার পক্ষে জামায়াতে জেলা ও উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত হয়ে তার পক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়, দোয়া ও দাঁড়ি পাল্লায় ভোট চাওয়া অব্যাহত রেখেছেন।
হাফিজ আনোয়ার হোসেন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন গণসংযোগকে। সেই লক্ষ্যে তিনি তাঁর প্রত্যেক দিনের কর্মসূচিতে গণসংযোগ কর্মসূচি রাখছেন। গলিপথ, হাটবাজার ও পাড়ামহল্লায় দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দেওয়ার বার্তা পৌছে দিতে কাজ করছেন।সিলেটের একমাত্র আসন যেখান থেকে অতীতে জামায়াত তার শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে। এছাড়া জেলার অন্য কোনো আসনে (সিলেট-১, ২, ৩, ৪, ৬) জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী এ পর্যন্ত নির্বাচিত হননি। সিলেট-৫ আসনে জামায়াত মনোনীত আনোয়ার হোসেন খান।ক্লিন ইমেজের আনোয়ার হোসেন খান এবারই প্রথম সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন। জকিগঞ্জ-কানাইঘাট এই দুই উপজেলা নিয়ে সিলেট-৫।
স্থানীয় জামায়াত সূত্র বলছে, প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য প্রার্থী হলেও আনোয়ার হোসেন খানকে বহু আগে থেকে প্রার্থী হিসেবে ঠিক করেছে দলটি। জকিগঞ্জ কানাইঘাট এই দুই উপজেলায় তার যাতায়াত ছিল প্রতিনিয়ত। তৃণমূলের সঙ্গে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরিতে তিনি গেল কয়েক বছর ধরেই কাজ করছেন।
জামাতে ইসলামের নেতৃস্থানীয় সূত্র বলছে , জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট এলাকায় বন্যা ও খরা মোকাবিলা, শীতবস্ত্র বিতরণ, অসহায়-নির্যাতিত মানুষের সহযোগিতা, মসজিদ -মাদ্রাসার উন্নয়নসহ দীর্ঘদিনের মানবিক কার্যক্রম তাঁকে এলাকাবাসীর কাছে এক ‘নীরব সেবক’ হিসেবে পরিচিত করেছে। কানাইঘাট-জকিগঞ্জের মানুষের সুখ-দুঃখে তাঁর ধারাবাহিক উপস্থিতি তাঁকে ভোটারদের অনুভূতির কাছাকাছি এনে দিয়েছে।
ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেন তিনি। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে মৌলভীবাজার জেলা থেকে শুরু করে সিলেট জেলা জামায়াতের উত্তর শাখার সেক্রেটারি এবং টানা ১৫ বছর জেলা আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেনবর্তমানে তিনি সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর।
প্রায় ১০ বছর মৌলভীবাজারের শাহ মোস্তফা একাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সিলেটের স্বনামধন্য শাহজালাল জামেয়া মাদ্রাসায় তাঁর শিক্ষকতা তাঁকে আরও ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, মেধাবৃত্তি প্রদান, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ-সব মিলিয়ে শিক্ষা অঙ্গনে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে সিলেটে পরিচিত।
ছাত্র জীবনে হিফজ শেষ করার পর তিনি দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল-প্রতিটি স্তরে কৃতিত্বের ছাপ রেখে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। ফুলবাড়ি আজিরিয়া আলীয়া মাদ্রাসা এবং সিলেট সরকারি আলীয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল (মাস্টার্স) ডিগ্রি তাঁকে একজন মেধাবী আলেম হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, তৃণমূলে বিএনপি’র প্রতিদ্বন্দ্বী শক্ত প্রার্থী না থাকা এবং অন্য দলগুলোর মধ্যেও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী না থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন এই জামায়াত নেতা। তার দীর্ঘ সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম তাঁকে এই আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। তাছাড়া ঐতিহাসিকভাবে সিলেট বিভাগে জামায়াতে ইসলামী-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী ঘাঁটি সিলেট-৫ আসন। যা কানাইঘাট-জকিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত । এই আসনে ২০০১ সালে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামি'র' বর্ষীয়ান নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরি জয় লাভ করেন।
সেই সাথে এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামী দল ও সমমনা ১১ দলীয় জোটের ভোট যোগ হবে এই আসন সহ সারাদেশে।
