বিয়ানীবাজারের রাস্তায় মারাত্তক আতঙ্ক ব্যাটারিচালিত রিকশা






বিশেষ প্রতিনিধি :- এম  এ রশিদ ঃ সিলেটের বিয়ানীবাজার শালেস্বরে সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার এমনিতেই বেহাল অবস্থা । এর মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। অনুমোদন, লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক-সবখানেই এখন এই অটোরিকশার রাজত্ব। স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা যখন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন সবখানেই তিন চাকার ব্যাটারি রিকশার দৌরাত্ম্য। এতে বাড়ছে যানজট, দুর্ঘটনা, জনভোগান্তি ও আতঙ্ক।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যাটারি বা মোটরচালিত রিকশা বা ভ্যান বা অনুরূপ শ্রেণির থ্রি-হুইলার চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিআরটিএর যান্ত্রিক যেকোনো যানবাহন সড়কে চলাচলের জন্য বিআরটিএর লাইসেন্স,রুট পারমিট ও ফিটনেস নিতে হয়।

বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের শালেস্বরে ইদানিং ব্যাটারিচালিত রিকশার পরিমাণ বেড়ে গেছে। তারা রিকশা চার্জ দিচ্ছে। আমাদের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে চার্জিং স্টেশন করার সুযোগ নেই।

সরেজিমনে দেখা গেছে, সড়কে অধিকাংশ রিকশা চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর। হঠাৎ ইউটার্ন, উল্টোপথে চলাচল,হঠাৎ থেমে যাওয়া এবং দ্রুতগতিতে প্রতিযোগিতা সব মিলিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।


 ব্যাটারিচালিত রিকশার অবৈধ চলাচল শুধু যানজট ও দুর্ঘটনার কারণ নয়, এটি ব্যবস্থাপনাকেও অচল করে দিচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত রিকশার সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় পুলিশের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে, তারপরও নতুন রিকশা রাস্তায় নামার কারণে সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হচ্ছে না।

))বিয়ানীবাজার পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মহিতুষ জানান, বিয়ানীবাজারে অনেক অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা রাস্তায় চলাচল করছে। আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জব্দ করি, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অযাচিত চলাচল কেবল যানজট ও দুর্ঘ*টনার কারণ নয়, এটি বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চাপ সৃষ্টি করছে। অনেক অবৈধ রিকশা বৈধ অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করছে। এতে শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহেই প্রভাব পড়ছে না, বরং দুর্ঘটনা ও বৈদ্যুতিক ঝুঁকির শঙ্কাও বাড়ছে।

বিষয়টি নিয়ে বিয়ানীবাজার পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন,বিয়ানীবাজারে ইদানিং ব্যাটারিচালিত রিকশার পরিমাণ বেড়ে গেছে। তারা রিকশা চার্জ দিচ্ছে। আমাদের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে চার্জিং স্টেশন করার সুযোগ নেই। আমাদের ট্যারিফ রুলস অনুযায়ী কেউ করতে পারবে,সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন,চার্জিং স্টেশনের ক্ষেত্রে শুধু আমাদের মনিটরিং করলে হবে না,সেক্ষেত্রে পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা রয়েছে। চার্জিং স্টেশন অবৈধভাবে কেউ করে থাকলে বিদ্যুৎ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাণিজ্যিক কানেকশনের আড়ালে কেউ চার্জিং স্টেশন চালালেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে বিয়ানীবাজারের  সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, নিরাপদ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব রিকশা সরকারি অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় চলাচল করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমেদ বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে আমাদের শহরে প্রতিদিন যানজট সৃষ্টি হয়। পথচারী ও স্কুলছাত্ররা হাঁটাহাঁটি করতে ভীষণ সমস্যায় পড়ে।পুলিশ যদি সত্যিই এগুলো বন্ধ করে, তাহলে আমাদের জীবন অনেক সহজ হবে।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা শেওলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জহুর উদ্দিন বলেন,ব্যাটারিচালিত রিকশা  এলাকায় চলার জন্য কোনো স্বীকৃতি দেব না। পর্যায়ক্রমে শালেস্বর  এলাকার রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার জন্য যথাযত কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হবে।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post